Header Ads

  • শিরোনাম সর্বশেষ

    খুমেকে বিপদমুক্তি পেতে আসা রোগীরা বিপদের ঝুঁকিতে ||খুলনার খবর২৪


    *নেই অগ্নি নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা
    * ফায়ার সার্ভিস ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলল নীরব প্রশাসন
    * নামেমাত্র ডাক্তারদের সুরক্ষার জন্য ব্যবস্থা নিলেও রোগীরা  অগ্নিঝুঁকিতে


    খুলনার খবর২৪||আলহাজ্ব ইয়াকুব রাজা|| খুলনা বিভাগের ধনী-গরীব সকল পর্যায়ের মানুষের নিরাপদ বিপদমুক্ত স্থান খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।  যেখানে সামান্য রোগ হলেই ছুটে আসেন নিরাপদ ভেবে। অথচ সেই স্থানটি বড় বিপদজনক হয়ে হানা দিতে পারে এ সকল রোগীদের। খুলনা ফায়ার সার্ভিস একাধিকবার বললেও কোনো কর্ণপাত করেননি কর্তৃপক্ষ। বড় ধরনের অগ্নিঝুঁকিতে রয়েছেন খুলনায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা হাজার হাজার অসুস্থ রোগী।
    ৬ তলা বিশিষ্ট এই হাসপাতালটিতে ৬৩টি  স্থানভিত্তিক হ্যাজার্ড থাকলেও এত বড় হাসপাতালের নেই অগ্নি নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা। হাসপাতালটির প্রথম তলায় রয়েছে গ্যাস্ট্রোলজি বিভাগ, অর্থোপেডিক্স বিভাগ,রোগীদের ওয়ার্ড, এক্স-রে বিভাগ,আল্ট্রাসনো বিভাগ,সিটি স্ক্যান  বিভাগ, পোস্ট অফিস, অগ্রণী ব্যাংক, ডাক্তার কক্ষ, পুলিশ কক্ষ, ক্যান্সার বিভাগ,আইসিইউ ভবন,গাইনি বিভাগ, রান্নাঘর স্টোর, মানসিক বিভাগ, প্রিজন সেল, ইমারজেন্সি বিভাগ, বহির্বিভাগ, ভায়া কক্ষ, আউটডোর, টিকিট কাউন্টার, জেনারেটর কক্ষ, বিদ্যুৎ সাবস্টেশন, পাম্প মেশিন, ডেড বডি হাউস, এম আর ক্লিনিক, অক্সিজেন প্লান্ট, ডাক্তার কক্ষ। অথচ  এতোগুলো বিভাগ থাকলেও অগ্নি নিয়ন্ত্রণের জন্য  সেখানে রয়েছে একটি মাত্র ডিসিপি এক্সটিং গুইসার।
    একই চিত্র ১ এবং ২ নম্বর তলায় তবে তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম এবং ষষ্ঠ তলায় অগ্নি নিয়ন্ত্রণের কোন ব্যবস্থা নাই এত বড় হাসপাতালে।
    অথচ যেখানে প্রতিটি তলায় থাকার কথা ছিল পর্যাপ্ত এক্সটিং গুইসার,হোজ রিল, পর্যাপ্ত পরিমাণে ওয়াটার রিজার্ভার, ফায়ার সার্ভিসের প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত জনবল, হাইড্রেন্ট ব্যবস্থা, ডিটেকশন সিস্টেম, ম্যানুয়াল কল সিস্টেম, ফায়ার এলার্ম, বিকল্প সিঁড়ির ব্যবস্থা, ফায়ার লিফট, স্ট্রোব লাইট, বজ্র নিরোধক  ব্যবস্থা, সেফটি লবি কিছুই নেই এ হাসপাতাল টিতে।
    এত বড় ঝুঁকিতে থাকা হাসপাতালটি এর বিপরীতে গত জুন মাসে সি,ও২ ফায়ার এষ্টেংগুইসার ক্রয় করেন মাত্র ১০ টি আর  এ,বি,সি এষ্টেংগুইসার মাত্র ১০০ টি
    সূত্রমতে ফায়ার সার্ভিসের সূত্রমতে, ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ গত বছর ১৪ টি ঝুঁকির কথা এবং পরামর্শ দিলো তার মাত্র একটি আংশিক পূরণ করতে সক্ষম হয় খুলনা মেডিকেল কলেজ।
    অথচ সরোজমিনে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় এ এষ্টেংগুইসার গুলো সবই লাগানো হয়েছে হাসপাতালের পরিচালক এবং ডাক্তারদের কক্ষের সামনে রোগীদের কোন কক্ষে খুজে পাওয়া যায়নি। অথচ আগুন ধরলে এ সকল অসুস্থ রোগীরাই বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকবেন বলে জানান ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।
    খুলনা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা রমেজা বেগম বলেন, খুলনা মেডিকেল কলেজের যে অবস্থা তাতে আমরা যারা রোগী চিকিৎসা নিতে আসি,তারা সব থেকে বেশি ঝুঁকিতে বেশি থাকি। কারণ এখানে আগুন ধরলে যে কোন সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটবে আর আতঙ্কে বেশি লোক মারা যাবে। অন্যনা হাসপাতালে দেখা যায় নাম মাত্র কিছু ফায়ারের সরঞ্জাম থাকলেও এখানে তাও নাই। অর্থাৎ যদি আগুন ধরে স্বজনরা এ সকল অসুস্থ রোগীদের নিয়ে কিভাবে বের হবে এমন কোনো পথ নেই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

    খুলনা মেডিকেল কলেজের হিসাবরক্ষক এসএম গোলাম কিবরিয়া বলেন, ফায়ার সার্ভিসের তদন্তের পর বিষয়টি আমাদের নজরে আসে এবং এটা সত্যিই ভয়াবহ বিষয় স্বীকার করে তিনি বলেন, এর পরিপ্রেক্ষিতে গত জুন মাসে আমরা একটি দরপত্র আহ্বান করি এবং যাতে  সি,ও২ ফায়ার এষ্টেংগুইসার ১০ টি আর  এ,বি,সি এষ্টেংগুইসার মাত্র ১০০ টি  ক্রয় করা হয়।
    খুলনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার এবং তদন্তকারী  মোঃ সাইদুজ্জামান বলেন, আমরা গত ফেব্রুয়ারি মাসে এ খুলনা মেডিকেল কলেজের এ তদন্ত করি এবং যাতে ভয়াভহ তথ্য বেরিয়ে আসে। আমরা নির্দেশ দেওয়ার পরেও এত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে কেন ফায়ারের এ সকল সরঞ্জাম গুলো কেনা হয়নি এবং স্থাপন করা হয়নি বিষয়টা বোধগম্য নয় বলে তিনি জানান।

    No comments

    please do not enter any spam link in the comment box.

    click here



    Post Bottom Ad