Header Ads

  • শিরোনাম সর্বশেষ

    বটিয়াঘাটার বারোআড়িয়া পোস্ট অফিসের ই-সেন্টারের উদ্যোক্তা সরকারি মালামাল নিয়ে উধাও

    মোঃ ইমরান,বটিয়াঘাটা,খুলনা//  খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার বারআড়িয়া ডাক বিভাগের পোস্ট মাস্টারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শেষনা হতেই  তার সহযোগী ই-সেন্টারের দায়িত্বে থাকা উদ্যোক্তা বিনিময় গোলদারের বিরুদ্ধে টাকা ও মালামাল নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    দীর্ঘ ৪/৫ মাস হচ্ছে ই-সেন্টারে তাকে পাওয়া যাচ্ছেনা। এলাকার রব গাজী নামের একটি যুবককে ই-সেন্টারের ভিতর প্রায় সময় বসে থাকতে দেখা যায়।

    এলাকাবাসি ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়,পোস্ট মাস্টার মিহির গোলদার ওরপে প্রভাষ মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তার ভাইপো, বিভিন্ন দুর্নীতি ও অপকর্মের সাথে জড়িত বিনিময় গোলদারের কাছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ই-সেন্টারের যাবতীয় মালামাল হস্তান্তর করেন।

    বিগতদিনে এলাকাবাসি পোস্ট মাস্টারের বিরুদ্ধে এক গণলিখিত অভিযোগ করেন খুলনা ডাক বিভাগের পিএমজি ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার ও দুর্নীতি কমিশন বরাবর। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত এলে ঘটনার সত্যতা প্রমাণ পায়। কিন্তু অধ্যবধি এই দুর্নীতি পরায়ন পোস্ট মাস্টারের বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগ থাকার পরেও সে রয়েছে বহাল তবিয়তে।

    একাধিক সূত্রে জানা যায়,তৎকালীন ডাক বিভাগের ইন্সপেক্টর মোঃ বাবুল আক্তার তদন্তে এসে মিহির কান্তি গোলদার এর সাথে গোপনীয় বৈঠকে  মিলিত হয়। তাদের উভয় পক্ষের ভিতর মোটা অংকের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ পাওয়া যায়। যে কারণে তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ প্রমাণিত হলেও উক্ত ইন্সপেক্টর বাবুল আক্তার পোস্টমাস্টারের বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্ট দায়সারা অবস্থায় খূলনা পিএমজি অফিসে জমা দেয়। এবিষয়ে ইন্সপেক্টর বাবুল আক্তার এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন,আমি পোস্ট মাস্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জমা দিয়েছিলাম। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট ডাক বিভাগ।

    তৎকালিন পিএমজি অফিসের কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলী খানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। সম্প্রতি ই-সেন্টারের নামে বিনিময় গোলদার বিভিন্ন লোকদের কাছ থেকে ট্রেনিং এর নামে হাজার হাজার টাকা উত্তোলন করে। পরে উক্ত টাকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা না দিয়ে বিনিময় গোলদার তার কাকা পোস্ট মাস্টার মিহির কান্তি গোলদার এর সাথে সমঝোতায় স্টুডেন্টের ট্রেনিং এর টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নেয় বলে অভিযোগ ওঠে। ই-সেন্টারে ৬ মাসের কম্পিউটার প্রশিক্ষণে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী বিউটি মিস্ত্রি, অশ্রুকনা মন্ডল, অন্তর মন্ডল, রুপা মন্ডল, মুগ্ধ চক্রবর্তী,মৃত্যুন্জয়,নিউটন বাওয়ালীসহ একাধিক শিক্ষার্থীরা জানায়,মিনিময় গোলদার সার্টিফিকেট দেওয়ার কথা বলে  আমাদের কাজ থেকে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা করে নিয়েছে। বিনিময় গোলদার ই-সেন্টারের মালামাল নিয়ে ৪/৫ মাস পুর্বে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

    এবিষয় পোস্ট মাষ্টার মিহির গোলদার বলেন,বিনিময় গোলদার পালিয়ে গেছে খবরটি সত্য। তবে মালামাল নিয়ে গেছে কিনা তা বলতে পারবনা। তবে তার  খজখবর চলছে। বটিয়াঘাটা উপজেলা পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার সঞ্জিত বিশ্বাস বলেন,আমি এখানে নতুন এসেছি। ফলে বিষয়টি আমি কিছুই জানিনা।

    উপজেলা পোস্ট অফিসের উদ্যোক্তা ইনচার্জ রাজু বিশ্বাস জানায়, বিনিময় গোলদারের বিরুদ্ধে অভিযোগটি সত্য। আমি বহুবার তার সাথে মোবাইল ফোনে ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। কিন্তু সে সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাকে বিভিন্ন  অশ্লীল ভাষায় কথা বলে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের  সদ্য যোগদানকারী ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মোঃ অলিউজ্জামান বলেন,আমি নতুন যোগদান করেছি। যে কারণে বিষয়টি আমার জানা নাই। তবে উক্ত ঘটনার সাথে যদি কেউ জড়িত থাকে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এবং তিনি দ্রুত  পোস্টমাস্টার মিহির কান্তি গোলদার ও তার ভাইপো বিনিময়  গোলদারের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থার আশ্বাস প্রদান করেন।

    No comments

    please do not enter any spam link in the comment box.

    click here



    Post Bottom Ad