অভয়নগরে গ্রাম্য সালিশের নামে বিধবাকে মারধরের অভিযোগ- খুলনার খবর
প্রনয় দাস, অভয়নগর উপজেলা প্রতিনিধি // যশোরের অভয়নগর উপজেলায় সুন্দলী ইউনিয়নের রামসরা গ্রামে এক সালিশী বৈঠকে এক বিধবাকে ঝাটা ও জুতা দিয়ে মারধর করার ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি সালিশী বৈঠকে বিধবার ক্ষমা চাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
বিধবা জানান, ১০ বছর আগে তার স্বামী মারা গেছেন। তাদের দুটি মেয়ে আছে। দুটি মেয়েরই তিনি বিয়ে দিয়েছেন। গ্রামের বাইরের দিকে ঘর করে তিনি একাই থাকেন।
তিনি বলেন, গ্রামের একটি হিন্দু মেয়ে পাশের গ্রামের একটি মুসলমান ছেলের সাথে পালিয়ে বিয়ে বিয়ে করেছে বলে এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে। ঐ মেয়ের সাথে একই শ্রেণীতে পড়া একটি ছেলের সাথে দেখা হলে তিনি গুজবের বিষয়ে সত্য- মিথ্যা জানতে চেয়েছিলেন।ছেলেটি বিষয়টি গ্রামের মাতব্বরদের কাছে বলে দেয়।এরপর তার বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর অপবাদ দিয়ে তার বিরুদ্ধে সালিশী ডাকা হয়।
সেই সালিশী বৈঠকে ইউপি মেম্বর তুষার কান্তি বিশ্বাস, আ'লীগ নেতা স্বপন সরকার, কলেজ শিক্ষক বিকাশ মন্ডল, স্কুল শিক্ষক নিলকমল মন্ডলসহ শতাধিক লোক উপস্থিত ছিলেন। সালিশী বৈঠকে হটাৎ গ্রামের নারাণ বৈরাগী বিধবাকে কয়েকটি লাথি মারেন। এরপর তার স্ত্রী অঞ্জলী বৈরাগী, বোন হবু বৈরাগী, কাকাতো ভাইয়ের স্ত্রী কালি বৈরাগী সহ আরও অনেকে তাকে ঝাটা দিয়ে মারধর করে।
এরপর নারায়ণ বৈরাগীর মেয়ে অর্পি বৈরাগী পা থেকে জুতো খুলে তাকে পেটান।এক পর্যায়ে তারা বিধবাকে দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চাইতে বলেন। ভয়ে চাপে পরে তিনি ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন।
ভুক্তভোগি বিধবা বলেন, পরে মাতব্বররা তার বাড়িতে এসে এঘটনার জন্য ক্ষমা চান। তিনি আরও বলেন, আমার কারও সাথে কোন দ্বন্দ্ব নেই। কিন্তু আমাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মারধর করা হয়েছে আমি এর সুষ্ঠ বিচার চাই।
এ ব্যাপারে সুন্দলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিকাশ রায় কপিল বলেন, ঘটনাটি আমি পরে শুনেছি।সেদিন যা ঘটেছে সেটা অত্যন্ত মর্মান্তিক ও নিন্দনীয়।
অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ একে এম শামীম হাসান জানান, এ ব্যাপারে কোন অভিযোগ আমি পাইনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




No comments
please do not enter any spam link in the comment box.