নড়াইলে চিত্রায় নৌকা বাইচ দেখতে লাখো মানুষের ভীড়
আলমগীর হোসেন, লোহাগড়া (নড়াইল)// চিত্রা নদীর দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে লাখো উৎসুক জনতা। আশ্বিনের কাঠফাঁটা রোদে এমনিতেই দরদর করে শরীর থেকে ঘাম ঝরছিল। বাইচ শুরু হবার কথা ছিল বেলা আড়াইটায়। কিন্তু ৩টা বেজে গেলেও নৌকাবাইচের দেখা নেই। তবে, উৎসবে অংশ নেওয়া সুলতানভক্তদের উৎসাহের কোনো কমতি ছিল না। এক পর্যায়ে পুরুষ ও নারী বাইচদের ছোট-বড় ১৪টি নৌকা দেখে উল্লাসে মেতে ওঠে সবাই। চিত্রা নদীর শেখ রাসেল সেতু থেকে শুরু হয়ে এসএম সুলতান সেতুতে গিয়ে শেষ হয় নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা । নৌকাবাইচ, আর্টক্যাম্পে অংশ নেওয়া শিল্পীদের চিত্র প্রদর্শনী, সংক্ষিপ্ত আলোচনাসভা, পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে নড়াইলের চিত্রা নদীর পাড়ে দারুণ সময় কাটিয়েছেন সুলতানভক্তরা। জমিদারদের রেখে যাওয়া বাধাঘাট চত্বরে দিনব্যাপী এই উৎসবের আয়োজন করে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এবং জেলা প্রশাসন।
আয়োজনের মূল উৎসব ছিল বিশ্ব পর্যটন দিবস এসএম সুলতান নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। সুলতানের প্রতি ভালোবাসা আর উচ্ছ্বাসে মুগ্ধ হয়ে যশোর জেলা থেকে আর্টক্যাম্পে অংশ নিতে আসা চিত্রশিল্পী সোহেল প্রাণ বলেন, প্রচণ্ড খরতাপেও সুলতানের প্রতি ভালোবাসার কমতি ছিল না ভক্তদের। প্রাণের গুরুজির অনুষ্ঠানে আসতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। প্রান্তিক এলাকায় এমন আনন্দ-উল্লাস দেখিনি কোথাও। নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা শেষে বাধাঘাট চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত আলোচনাসভা ও পুরস্কার বিতরণী। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহাবুব আলী এমপি। জেলা প্রশাসক মো.হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মোর্তজা, সরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোকাম্মেল হোসেন, ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহম্মেদ, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো.ইসমাইল হোসেন(এনডিসি), পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায়, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুভাষ বোস, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দীন খান নিলু, পৌরমেয়র আনজুমান আরা। স্বাগত বক্তব্য দেন সুলতান ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব মো.আশিকুর রহমান মিকু, গ্রীন ভয়েস নড়াইল জেলার সমন্বয়ক শরিফুজ্জামান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মো. মাহাবুব আলী এমপি বলেন, শিল্পী সুলতান ছিলেন একজন খাঁটি দেশপ্রেমিক। পেশিবহুল সুস্থ সবল গ্রামীণ জনপদের কৃষকের চিত্র তার তুলির আঁচড়ে ফুটে উঠতো। একটি কঠিন বিষয়কে তিনি অতি সহজেই এঁকে দিতে পারতেন। দেশের প্রতিটি এলাকায় গড়ে উঠুক সুলতানের মতো শিল্পী। তিনি বলেন, শিশু-কিশোরদের ভালোবাসতেন বলেই তিনি শিশুস্বর্গ কমপ্লেক্স গড়ে তোলেন। এ প্রজন্মের শিল্পীদের তার আদর্শ বুকে ধারণ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবার আহবান জানান। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মাশরাফি বলেন, সুলতান ছিলেন বিশ্বখ্যাত শিল্পী। অকৃতদার এই মানুষটির দুই পকেটে থাকতো সাপ আর বেজি। তার সামনে সাপ, বেজি, বিড়াল, কুকুরসহ অন্যান্য প্রাণী বসে থাকলেও কেউ কারোর ওপর আক্রমণ করতো না। এই মানুষটির পক্ষেই এটা সম্ভব ছিল। নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় কালাই গ্রুপে (বড় নৌকা) প্রথম স্থান অধিকার করেন মাগুরা সদরের খানবাড়িয়া গ্রামের জহুর মোল্যার আল্লার দান মাগুরা টাইগারস। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন পাবনার মুক্তনগর এলাকার হাফিজুর রহমানের শাপলা এবং মাগুরার মোহাম্মদপুর ধুসরাইল গ্রামের আতর আলীর মায়ের দোয়া নৌকা। টালাই গ্রুপের (ছোট নৌকা) খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার ঘোষগাতি গ্রামের আলকাচ শেখের সোনার বাংলা প্রথম, খুলনার তেরখাদা উপজেলার পারহাজি গ্রামের সাইফুল সিকদারের রকেট দ্বিতীয় এবং গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া জোয়ারিয়া গ্রামের নিকুঞ্জ কুমার মন্ডলের মা শিতলা ।



No comments
please do not enter any spam link in the comment box.