অভয়নগরে স্কুলে গিয়ে টিভি সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদা দাবি : ভীতসন্ত্রস্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
প্রনয় দাস, অভয়নগর উপজেলা প্রতিনিধি //যশোরের অভয়নগরে স্কুলে গিয়ে টিভিসহ বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয়ে শিক্ষকদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে তাদের নিকট থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলার ডুমুরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) বিকালে ওই স্কুলের সহকারি শিক্ষক মোসাঃ ফিরোজা খাতুন সাংবাদিক পরিচয়দানকারী কয়েক জনের নাম উল্লেখ করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।
শিক্ষক ফিরোজা খাতুন জানান, গত মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পাঠদান চলাকালে দুইজন ব্যক্তি গলায় বিভিন্ন ধরনের কার্ড ঝুলিয়ে ও ক্যামেরা নিয়ে স্কুলে আসে। তারা আমার নিকট স্কুলের কম্পিউটার সম্পর্কে জানতে চান।
এসময় আমি তাদের পরিচয় জানতে চাইলে এইচ এম জুয়েল রানা ও মিঠুন দত্ত নাম জানিয়ে নিজেদেরকে টিভি ও পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দেন। তখন আমি তাদেরকে জানাই, প্রধান শিক্ষক কম্পিউটারটি মেরামতের জন্য আমার কাছে দিয়েছেন কিন্তু অসুস্থতার কারণে তা মেরামত করা হয়নি বলে জানান। এ কথা বলামাত্র তারা ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন বের করে ভিডিও করতে শুরু করেন এবং রাত ৮ টায় ৭১ টিভি, সময় টিভিতে এই রিপোর্ট দেখানো হবে বলে ভয়ভীতি দেখান।
শিক্ষক ফিরোজা খাতুন আরো বলেন, সরকারি চাকরি ও পরিবারের কথা চিন্তা করে আমি তাদের নিকট ক্ষমা চাইলে তারা বলেন, টিভিতে দেখানো বা সংবাদপত্রে নিউজ বন্ধ করতে হলে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে টাকা দিতে হবে। কত টাকা দিতে হবে জানতে চাইলে তারা বলেন, অনেক টাকা লাগবে। এসময় আমি অন্যান্য শিক্ষকদের কাছ থেকে ধার করে তাদের হাতে পাঁচশ টাকা দিলে তারা বলেন, এত বড় ব্যাপার এই সামান্য টাকায় হবে না। আমরা আগামী কাল আবার আসবো টাকা গুছিয়ে রাখবেন বলে তারা চলে যায়। পরদিন ২৯ সেপ্টম্বর বুধবার তারা আবারও স্কুলে আসে।
তারা প্রধান শিক্ষক পলাশ মল্লিকের কাছে স্কুলের বিভিন্ন কাগজপত্রের ভাউচার দেখতে চান। প্রধান শিক্ষক ভাউচার দেখানোর সময় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য কমলেশ টিকাদার সেখানে আসেন। তিনি ওই দুই যুবকের পরিচয় জানতে চাইলে উভয়ের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। পরবর্তীতে বিষয়টির সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ মিমাংসা করেন ম্যানেজিং কমিটিও শিক্ষক মন্ডলী।
প্রধান শিক্ষক পলাশ মল্লিক বলেন, ঘটনার মিমাংসা হওয়ার পর এক ব্যক্তি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে জানতে চান, শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির পক্ষ থেকে তাদের দুই সাংবাদিক দৈনিক যশোরের প্রতিনিধি এইচ এম জুয়েল রানা ও দৈনিক প্রভাত ফেরির প্রতিনিধি মিঠুন দত্তকে হেনস্থা করা হয়েছে কেন?
ঘটনার সুষ্ঠ সমাধান হয়েছে বলে তাকে জানানো হলেও ৩০ সেপ্টম্বর বৃহস্পতিবার ‘অপরাজেয় বাংলা’ নামের একটি অনলাইন নিউজ পোটালে “অভয়নগরে সংবাদ সংগ্রহকালে শিক্ষকদের হাতে দুই সংবাদকর্মী হেনস্থার শিকার” শিরোনামে একটি মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা হয়। তিনি আরো জানান, এরপর গত ৪ অক্টোবর সোমবার ৩ ব্যক্তি নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বেলা ২টা ১০মিনিটে স্কুলে আসে এবং বিভিন্ন ধরণের ভয়ভীতি ও হুমকি ধামকি মূলক কথা বলে।
এসময় তারা হুমকি দিয়ে বলেন, আপানারা সাংবাদিকের গায়ে হাত দিয়েছেন, আপানাদের স্কুল বন্ধ করে দেয়া হবে। আমরা আবার আসবো, আরো নিউজ করবো। এই বলে তারা চলে যায়। গতকাল মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) জলাবদ্ধ এলাকায় অভয়নগর উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি শাহ্ ফরিদ জাহাঙ্গীর পরিদর্শনে গেলে এঘটনা তুলে ধরেন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসি।
এসময় চলিশিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাদির হোসেন মোল্যা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান শিক্ষক পলাশ মল্লিক জানান, আমি ও আমার শিক্ষকরা খুব আতংকে রয়েছে, কারণ তারা বিভিন্ন সময় ফোন করে এবং এখানে উপস্থিত হয়ে আমাদেরকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি দিচ্ছে। এতে বিদ্যালয়ে আসতে ভয় পাচ্ছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। এর সঠিক সমাধান না করলে বিদ্যালয়ে পাঠদানের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসছেনা।
এব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদ করিম জানান, উক্ত বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আমিনুর রহমান জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। শিক্ষা অফিসে অভিযোগ আসলে ওখানে আপনারা খোঁজ নিতে পারেন। তবে বিষয়টি খোজ নিয়ে দেখব এবং সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি শাহ্ ফরিদ জাহাঙ্গীর জানান, আমি গত ৫ অক্টোবর পানিবন্দি এলাকার খোজ খবর নিতে ডুমুরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাই, সেখানে গেলে প্রধান শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকরা ঘটনাটি জানান, বিষয়টি অত্যান্ত দু:খ জনক।
সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ দাবি করা অত্যান্ত দু:খের বিষয়। এব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে তন্তপূর্বক দোষিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ওই বিদ্যালয়ে যেন শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসে সে ব্যাপারেও ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।



No comments
please do not enter any spam link in the comment box.