Header Ads

  • শিরোনাম সর্বশেষ

    যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২ জন আসামির ফাঁসি কার্যকর

    মোঃ জসিম উদ্দিন তুহিন, যশোর জেলা প্রতিনিধি// চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় রায় লক্ষ্মীপুর গ্রামে ২ জন নারীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২ জন আসামির ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।

    গতকাল সোমবার ৪ অক্টোবর রাত ১০ টা ৪৫ মিনিটে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। 

    দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, আলমডাঙ্গা উপজেলার খাসকররা ইউনিয়নের রায় লক্ষ্মীপুর গ্রামের আজিজ ওরফে আজিজুল (৫০) ও একই গ্রামের মিন্টু ওরফে কালু (৫০)।

    যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার তুহিন কান্তি খান ফাঁসি কার্যকরের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অন্য সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে রাতেই ২ জনের মরদেহ তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এদিকে বিচারক ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে এই ফাঁসি কার্যকরের মধ্য দিয়ে টানা ১৮ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নিহতদের স্বজনরা।

    যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার তুহিন কান্তি খান জানান, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার আলোচিত ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দণ্ডপ্রাপ্ত ২ জনের ফাঁসি কার্যকরের জন্য কয়েক দিন আগে থেকেই আমরা প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন। শনিবার যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে শেষবারের মতো তাদের ২ জনের স্বজনেরা তাদের সঙ্গে দেখা করেন। তাদের ২ জনের শেষ ইচ্ছা অনুয়ারী ২ পরিবারের অর্ধশতাধিক মানুষের সঙ্গে দেখা করিয়ে দিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। এছাড়া তাদের ইচ্ছা অনুয়ায়ী শনিবার গরুর কলিজা ও ইলিশ মাছ খাওয়ানো হয়। রোববার গ্রিল ও নান রুটি আর সোমবার মুরগির মাংস, দই ও মিষ্টি খাওয়ানো হয়। 

    এদিকে ২ খুনির ফাঁসি কার্যকর করা জন্য কারাগারের নিরাপত্তায় সোমবার সন্ধ্যার পর থেকেই গোটা এলাকায় পুলিশ ও র‌্যাবের নজরদারি বাড়ানো হয়। ১৩ জন অস্ত্রধারী কারারক্ষী কারাগারে দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া পুলিশ ও র‌্যাবের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন কারাগারের প্রধান ফটকে। কারা সূত্রে জানা গেছে, ২ জন খুনির ফাঁসি কার্যকর করতে রাতে একে একে কারাগারে প্রবেশ করেন যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান, পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়াদ্দার, সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন, যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক দিলীপ কুমার রায়, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী সায়েমুজ্জামান। রাতে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ওই ২ জন আসামিকে গোসল করানোর পর তাদের তওবা পড়ান কারা মসজিদের ইমাম। রাতেই স্বজনদের সঙ্গে শেষ সাক্ষাতের পর তাদের খাবার খাওয়ানো হয়। এরপর তাদের রায় পড়ে শোনানো হয়। নিম্ন আদালতের রায়, আপিল বিভাগের রায় এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমার আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার বিষয়টি তাদের জানানো হয়। পরে তাদের ফাঁসির মঞ্চে নেওয়া হয়। রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে প্রথমে মিন্টু ওরফে কালু এবং এর ৫   পাঁচ মিনিট পর একই গ্রামের আজিজ ওরফে আজিজুলের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

    এরপর ফরেনসিক টিম ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার পর মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। 

    এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় খাসকররা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে খুনি কালু ও আজিজুলের পরিবারের ৭ জন সদস্য তাদের মরদেহ নিতে কারাগারে আসেন। এ সময় তাদের ২ জনের জন্য পৃথক ২টি অ্যাম্বুলেন্স সঙ্গে ছিল। 

    ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পরিবারের সঙ্গে শেষ সাক্ষাতের সময় কালু ও আজিজ সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে কাঁদতে থাকেন। ২০০৩ সালের ২৭ শে সেপ্টেম্বর আলমডাঙ্গা উপজেলার জোড়গাছা গ্রামের দুই নারীকে রায় লক্ষ্মীপুর গ্রামের মাঠে হত্যা করা হয়। তারা ২ জন বান্ধবী ছিলেন। হত্যার আগে তাদের ২ জনকে ধর্ষণ করা হয় বলে পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে ওই দুই নারীর গলা কাটা হয়। এ ঘটনায় নিহত এক নারীর মেয়ে বাদী হয়ে পরদিন আলমডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ওই ২ জনসহ চারজনকে আসামি করা হয়। অপর ২ জন হলেন একই গ্রামের সুজন ও মহি। মামলা বিচারাধীন অবস্থায় আসামি মহি মারা যান।

    No comments

    please do not enter any spam link in the comment box.

    click here



    Post Bottom Ad